সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রশ্নে সাতচল্লিশ এবং একাত্তর

সংস্কৃতির চাইতে অর্থনীতি দিয়া ৪৭ আর ৭১ কে বেশি ধরা যায় মনে হয়। … তত্ত্বের চাইতে উনার রেফারেন্সের দিকে মনোযোগ বেশি দেয়া লাগছে। এজন্য দেখবেন বাঙালি মুসলমান, বিহারি ইত্যাদি টার্মগুলোর ঐতিহাসিক ও অন্টোলজিকাল যেসব লোডেড বাহাছ তা উনি সযত্নে এড়াইছেন। এবং কিছু জায়গায় ফ্যাক্ট হিসেবে ভিডিও লিঙ্ক সাজেস্ট করছেন, দলীল হিসেবে তা কতটুকু যথাযথ তার তর্কে না গিয়া এগুলারে সেকেণ্ডারি সোর্স হিসেবে দেখবার দরখাস্ত রইলো… — সম্পাদক

নাজমুল হুদা  |  ১ম সংখ্যা · পৃষ্ঠা ৫৭

মাত্র ২৩ বছরের ব্যাবধানে আজেকের বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডকে দুটি আলাদা স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হেরেছে। সংগ্রাম করতে হেরেছে দুইটি পৃথক মানচিত্রের জন্য। একটি সাতচল্লিশে, অপরটি একাত্তরে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দুইটি সংগ্রামের সাংস্কৃতিক পাটাতন অভিন্ন।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি পক্ষকে বলতে শোনা যায় সাতচল্লিশের দেশভাগ একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো কিন্তু একাত্তরের দেশভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক ‘পার্থক্যে’র কারণেই মূলত একাত্তরে দেশভাগ হেয়েছিলো।

অপরদিকে, অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও এখনো একটি পক্ষ রয়েছে যারা ভাবেন সাতচল্লিশের দেশভাগ ঠিক ছিলো কিন্তু একাত্তরের দেশভাগ ভুল ছিলো। তারা মনে করেন, কাল পরিক্রমায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হেয়ে গেলে পাকিস্তান টিকে যেতো।

হেয়ে গিয়েছিলো। মুসলমানদের প্রতি কোনো ইতিবাচক উচ্চারণ তো ছিলোই না; বরং তাদের ব্যাপারে সকল ক্ষেত্রে আমাদের উনিশ শতকের লেখকরা ছিলেন নিরব। মুসলিমদের প্রতি তাদের ঘৃণাটা ছিলো ঐতিহাসিক অর্থে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা। আমি আগেই বলেছি এটার সম্পর্ক অতীতের সাথে। আর বর্তমানের মুসলমানদের তারা একরকমের ভুলেই বসেছিলেন। যখন ভুলে যেতেন না তখন উদাসীন থাকতেন। এই নবজাগরণের একদম প্রথম ফলাফল ছিল ভারতের হিন্দুদের প্রগতিশীল বি-ইসলামীকরণ এবং হিন্দু ঐতিহ্যের অনুরূপ পুনরুজ্জীবন। উনবিংশ শতাব্দী জুড়ে ভারতের হিন্দুদের সংস্কৃতিকে তার প্রাচীন সংস্কৃত ভিত্তিতে ফিরিয়ে নেওয়া হেয়েছিল। অ-হিন্দু বলতে কেবলমাত্র ইউরোপীয় প্রভাবকেই তারা স্বীকৃতি দিয়েছিলো এবং আত্তীকরণ করার চেষ্টা করেছিল। এভাবে উনিশ শতকের নতুন ভারতীয় সংস্কৃতি তার একান্ত নিজস্ব একটি সীমারেখা তৈরি করে নিয়েছিলো। বিশেষ করে মুসলিম প্রভাব ও আকাঙ্ক্ষাকে তারা একটি অচ্ছুৎ বিষয়ে পরিণত করেছিলো। ফলে এই রেনেসার সীমানার ভেতর মুসলমানদের কোনো জায়গা হল না। তারা নিম্নবর্গের মানুষ হয়ে বাইরেই পড়ে রইলো। মুসলমানরা তাদের সমস্ত ইসলামী মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে বিসর্জন দিয়েই কেবল এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারতো।২

নীরদ চন্দ্র চৌধুরীর এইসব বক্তব্যের বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন আর যারা মুসলমানদের অপরিকরণে ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের উভয়ের বক্তব্য থেকে আর তৎপরতায় অপরিকরণের ক্ষেত্রে মুসলিম বিরোধী তৎপরতায় সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল পাওয়া যাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কে। “শতবর্ষের ফেরারি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়” প্রবন্ধে আহমদ ছফা বলেন, বঙ্কিম ছিলেন আধুনিক বাংলা তথা ভারতের সর্বপ্রথম রাষ্ট্রবেত্তা। তিনিই সর্বপ্রথম একটি হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

হিন্দুরাষ্ট্রের এই তত্ত্ব সবাই গ্রহণ না করলেও এর সাংস্কৃতিক ও এই সংস্কৃতি উদ্ভূত রাজনীতিতে এর প্রভাব ছিলো সর্বাগ্রাসী।

এ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক আবদুল মওদুদ বলেনঃ

মুসলিম নেতা নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী একটি বক্তৃতায় মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ সাহিত্য বন্ধের প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি আকর্ষন করলে, ‘ভারতী পত্রিকা’য় রবীন্দ্রনাথ এই মন্তব্য করেন।

এছাড়া ‘মুসলমান ছাত্রের বাংলা শিক্ষা’ প্রবন্ধে রবি ঠাকুর লেখেন, “…সৈয়দসাহেব বাংলা সাহিত্য হইতে মুসলমান-বিদ্বেষের যে উপকরণ সংগ্রহ করিয়াছেন সেগুলি আমরা অনাবশ্যক ও অসংগত জ্ঞান করি।… বঙ্কিমবাবুর মতো লেখকের গ্রন্থে মুসলমান-বিদ্বেষের পরিচয় পাইলে দুঃখিত হইতে হয় কিন্তু সাহিত্য হইতে ব্যক্তিগত সংস্কার সম্পূর্ণ দূর করা অসম্ভব।”

বঙ্কিমের এইসব লেখাকে নিছক গল্পের খাতিরে লেখা হিসেবে, কিংবা রাজনীতি বিবর্জিত লেখা হিসেবে পড়া যায় না। তার সামগ্রিক লেখাজোখার দিকে দৃষ্টিপাত করলে এটা স্পষ্ট যে, উদ্দেশ্য বিবর্জিত লেখা বঙ্কিম লিখতেন না। এমনকি বঙ্গদর্শন পত্রিকার ১২৭৯ সংখ্যায় উপন্যাস শেষ হওয়ার পর তিনি লেখেন, “আমরা বিষবৃক্ষ শেষ করিলাম। ভরসা করি, ইহাতে গৃহে গৃহে অমৃত ফলিবে। এতে “বিষবৃক্ষ” এবং “অমৃত” শব্দদুটি বড় হরফে ছাপা হয়।

কেউ কেউ বঙ্কিমের ব্যাপারে বলে থাকেন, বঙ্কিম হিন্দু-মুসলমানকে সমদৃষ্টিতে দেখতেন এবং এর পক্ষে তার লেখা থেকে কিছু উদ্ধৃতিও দিয়ে থাকেন। সেগুলি পর্যালোচনা করার যথাযথ জায়গা এটি নয়। তবুও দু’একটি বিষয়ে একটু নজর বুলানো যাক। বলা হেয়ে থাকে ‘বঙ্গদেশের কৃষক’ প্রবন্ধে তিনি হাসিম শেখ আর রামা কৈবর্তদের সমদৃষ্টিতে দেখেছেন অথচ এই লেখাটি আদ্যোপান্ত ইকোনমিক কনটেক্সটে লেখা। এখানে ধর্মের কোনো ব্যাপারই নেই। ব্যাপার রয়েছে অর্থনীতির। ব্যাপার রয়েছে গরীবের দৈন্যের। কিন্তু সেখানে ঠিকই তিনি ইংরেজের পক্ষের লাঠিয়ালের ভূমিকায়। একই প্রবন্ধে সর্বনাশা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পক্ষে বঙ্কিমের সাফাইঃ “চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ধ্বংসে বঙ্গসমাজে ঘোরতর বিশৃঙ্খলা উপস্থিত হইবার সম্ভাবনা। আমরা সামাজিক বিপ্লবের অনুমোদক নহি। বিশেষ যে বন্দোবস্ত ইংরেজরা সত্য প্রতিজ্ঞা করিয়া চিরস্থায়ী করিয়াছেন, তাহার ধ্বংস করিয়া তাঁহারা এই ভারতমঙ্গলে মিথ্যাবাদী বলিয়া পরিচিত হয়েন, প্রজাবর্গের চিরকালের অবিশ্বাসভাজন হয়েন, এমত কুপরামর্শ আমরা ইংরেজদিগকে দিই না। যে দিন ইংরাজের অমঙ্গলাকাঙ্ক্ষী হইব, সমাজের অমঙ্গলাকাঙ্ক্ষী হইব, সেইদিন সে পরামর্শ দিব।”

বঙ্কিম নাকি মুসলমানদের কারণে বহুবিবাহ নিষিদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু ব্যাপারটি সেরকম নয়। বঙ্কিম মূলত বহুবিবাহের বিপক্ষেই ছিলেন, কেবল ‘আইন করে’ বহুবিবাহ বন্ধ করার বিপক্ষে ছিলেন। তার পক্ষে একটা যুক্তি হিসেবে মাত্র মুসলমানদের প্রসঙ্গটা এনেছিলেন মাত্র। ‘বহুবিবাহ’ নামক প্রবন্ধে তিনি লেখেনঃ “মনে করুন, দেশশুদ্ধ লোক সকলেই স্বীকার করিল যে, বহুবিবাহ প্রাচীন হিন্দুশাস্ত্র-বিরুদ্ধ। তাহাতে কি বহুবিবাহ প্রথা নিবারিত হইবে? আমরা সে বিষয়ে বিশেষ সংশয়াবিশিষ্ট। বঙ্গীয় হিন্দুসমাজে যে সকল সামাজিক প্রথা প্রচলিত আছে, তাহা সকলই শাস্ত্রসম্মত বলিয়া প্রচলিত এমত নহে। সে সমাজমধ্যে ধর্মশাস্ত্রাপেক্ষা লোকাচার প্রবল। যাহা লোকাচারসম্মত, তাহা শাস্ত্রবিরুদ্ধ হইলেও প্রচলিত; যাহা লোকাচারবিরুদ্ধ, তাহা শাস্ত্রসম্মত হইলে প্রচলিত হইবে না। বিদ্যাসাগর মহাশয় পূর্বে একবার বিধবাবিবাহের শাস্ত্রীয়তা প্রমাণ করিয়াছেন;

রবীন্দ্রনাথ নিজে ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী হলেও, ক্ষেত্র বিশেষে তিনিও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে পারেননি। ফলে তৎকালীন শিক্ষিত মুসলমানদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ছিলো সেটি উভয় ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐক্যের অনুঘটক হয়ে উঠতে পারেননি।

সৈয়দ আলী আহসান তার জীবনের শিলান্যাস গ্রন্থে লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের একটি ঘটনা তৎকালীন মুসলমান সমাজে একটি বিক্ষোভের সঢ়ঘর করেছিল। ১৯৩৫ সালের যে ভারত শাসন আইন বৃটিশ সরকার প্রবর্তন করেছিল তাতে বিভিন্ন প্রাদেশিক পরিষদে মুসলমানদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। হিন্দুরা এই আসন সংরক্ষণে প্রতিবাদ জানায়। কলকাতায় টাউন হলে হিন্দুদের এক বিরাট প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রবীন্দ্রনাথ উক্ত সভায় উপস্থিত থেকে হিন্দুদের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যে মুসলমানগণ বিক্ষুব্ধ হয় এবং মুসলমানদের পত্র-পত্রিকাগুলিতে রবীন্দ্রনাথের কঠোর সমালোচনা প্রকাশিত হয়। হিন্দুদের প্রতিবাদটি স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, বরঞ্চ বৃটিশ আনুগত্যেরই সপক্ষে ছিল। তারা ১৯৩৫-এর আইনের পূর্বে শাসন পরিষদগুলিতে সম্প্রদায় হিসাবে এককভাবে যে সুযোগ সুবিধাগুলি পেত, সেটা কিছুটা খর্ব হওয়ায় তারা সাম্প্রদায়িকভাবে মুসলমানদের সুযোগ লাভের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ সে সময় বিলেতের ম্যানচেস্টার গার্ডেন পত্রিকায় হিন্দুদের সপক্ষে একটি প্রতিবাদ পত্রও প্রকাশ করেছিলেন।

এই প্রতিবাদ পত্রটি প্রকাশ হয়েছিল ১৯৩৮ সালে ২৮শে ফেব্রুয়ারি তারিখে। উক্ত পত্রে মুসলমানদের আসন সংরক্ষণ ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন যে ইংরেজরা তাদের সংকীর্ণতা এবং অবিশ্বাস থেকেই ১৯৩৫ সালের শাসন আইন প্রবর্তন করেছে। তিনি যে কটি ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন এটা বুঝাবার জন্য তার মধ্যে ‘ন্যারো কশন’, এবং ‘মাইজারলি মিস্ট্রাস্ট’ কথাগুলো ছিলো। অর্থাৎ ১৯৪৫ সালের পূর্বে যে ভারত শাসন আইন বলে প্রাদেশিক আইন সভাগুলো পরিচালিত হত, তাতে হিন্দুদের প্রতি ইংরেজদের যে বিশ্বাসের প্রতিফলন ছিল ১৯৩৫ সালের আইনে সে বিশ্বাসকে নষ্ট করা হেয়েছে। সেই সময় মুসলমান সমাজ অর্থনৈতিক বিষয়ে এবং রাজনৈতিক বিষয়ে অত্যন্ত বেশি বিচলিত এবং অস্থির ছিল। রবীন্দ্রনাথের সুস্পষ্টভাবে হিন্দু সমাজপতিদের পক্কাবলম্বন মুসলমানদের মনে ক্ষোভ এবং দুঃখের সঢ়ঘর করেছিল। তারা রবীন্দ্রনাথের প্রতি অসৌজন্য প্রকাশ না করে নিজেদের দুঃখের কথা পত্র-পত্রিকায় বর্ণনা করেছিল। রবীন্দ্রনাথ কেন তখন হিন্দু সমাজপতিদের পক্ষে কথা বলেছিলেন তার উত্তর আজো আমি খুঁজে পাই নি। যিনি আজীবন সর্বসংস্কারমুক্ত উদার পুরুষ ছিলেন তিনি কোন তাৎপর্যে রাজনৈতিক সুবিধাভোগের ক্ষেত্রে সে পক্ষকে অবলম্বন করে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে গেলেন তা আজো আমার কাছে বিস্ময়ের।

…রবীন্দ্রনাথ হিন্দুদেরই কবি নন আমাদেরও কবি-এ বিশ্বাসে আঘাত লেগেছিল বলেই রবীন্দ্রনাথের উক্তিতে আমরা দুঃখ পেয়েছিলাম, ক্ষুব্ধ হেয়েছিলাম।”

রবীন্দ্রনাথ জমিদারী কর্মসূত্রে মুসলমান প্রজাদের মধ্যে কাটিয়েছেন। তাদের জীবনধারা দেখেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর বিপুল রচনাপুঞ্জের মধ্যে মুসলমানদেরকে তেমন একটা ঠাঁই দেননি। কেন দেননি সেই প্রশ্নও উঠেছে বারবার।

গিয়েছি, কিন্তু আমার সহপাঠীরা আমাকে কোনোদিন একথা বলে নাই। অনেকের মা ও বাবা আমাকে আদরও করেছেন। এই ধরনের ব্যবহারের জন্য জাতক্রোধ সৃষ্টি হেয়েছে বাঙালি মুসলমান যুবকদের ও ছাত্রদের মধ্যে। তিনি আরও লেখেন, “অখণ্ড ভারতে যে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না এটা আমি মন প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতাম।”

এইসব তিক্ত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বাঙালী ‘পাকিস্তান’ নামের একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। কিন্তু এ রাষ্ট্রের জন্মের অব্যবহিত পরেই বাঙালি দেখতে পেল যে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রশ্নে তাদের মুক্তি আসেনি। ভারতীয়রা তাদেরকে বাঙালী না বলে ‘মুসলমান’ বলত, এখন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বলতে চাইলো: এরা মুসলমান নয়, ‘বাঙালি’। উভয় নিপেষণের মূল সূত্র এবং অভিন্নতার জায়গাটি এখানেই।

কায়েদে আজম জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দিয়ে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের একটি ভিত নির্মান করে যান। অন্তত বলা চলে তার এই অন্যায্য বক্তব্যটিকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের ভিত হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হেয়েছিলো। পূর্ব-পাকিস্তান এবং পশ্চিম-পাকিস্তান উভয় অঞ্চলে কায়েদে আজমের প্রতি একটি স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল। একটিমাত্র রাষ্ট্রভাষা চালু করার চেষ্টা হয়তো তার আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ ছিলো। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সামগ্রিক আচরণ এবং কর্মতৎপরতায় ধীরে ধীরে এটি স্পষ্ট হতে থাকে যে, ধর্ম হিসেবে ইসলাম বা পরিচয় হিসেবে মুসলিম কোনটির প্রতিই তারা নিবেদিত নয়। বরং তারা ইসলামের নামে বাঙালি মুসলমানের উপরে করাচি-পাঞ্জাবীর একটি সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

সৈয়দ আলী আহসান ব্রিটিশ বাংলা এবং বাংলায় পাকিস্তানি শাসন আমলের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে খুব ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তার আত্মজীবনী ‘জীবনের শিলান্যাস’ গ্রন্থের পরতে পরতে এর নজির পাওয়া যায়। ঐ সময়টিকে বুঝতে সহায়ক বিবেচনায় একই বই থেকে বেশ কয়েকটি ঘটনা আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশে সরকারি পয়সায় হুরুফুল কোরান সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হল। এবং শিক্ষা বিভাগের একজন স্কুল ইনসপেক্টরকে এর দায়িত্বে নিযুক্ত করা হল। তাছাড়া সরকারিভাবে পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডক্টর শহীদুল্লাহকে অনুরোধ করা হল, বৈজ্ঞানিকভাবে আরবী বর্ণমালা বাংলা ধ্বনির উপযুক্ত করতে গেলে কি কি সংশোধন প্রয়োজন তা যেন তিনি পরীক্ষা করে সরকারকে জানান। চিঠিটা লিখেছিলেন ডক্টর মাহমুদ হাসান। তিনি তখন ছিলেন পাকিস্তানের শিক্ষা উপদেষ্টা অর্থাৎ শিক্ষাসচিব। শহীদুল্লাহ সাহেব এই চিঠি পেয়ে খুবই ক্ষুব্ধ হন এবং ঢাকায় উপস্থিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিনিধির কাছে আরবী হরফে বাংলা লিখবার সরকারি প্রয়াসকে নিন্দা করে বিবৃতি দেন। এর পরবর্তী ঘটনার কথা আমার মনে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব শেষে উপাচার্য ডক্টর মোয়াজ্জেম হোসেনের বাসগৃহে বিকেলবেলা একটি সংবর্ধনা ছিল। উক্ত সংবর্ধনায় ডক্টর হাসান উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা উৎসবে শহীদুল্লাহ সাহেবকে দেখে ডক্টর হাসান দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শহীদুল্লাহ সাহেবকে ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন, ইউ শহীদুল্লাহ ইউ আর এ ট্রেটর। আপনি একটি বিদেশী পত্রিকায় দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন তাড়াতাড়ি এসে শহীদুল্লাহ সাহেবকে সরিয়ে নিলেন।”

এর সম্মানার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সী ও উর্দু বিভাগের প্রধান তাঁর বাসগৃহে একটি নৈশভোজের আয়োজন করেন। নৈশভোজে ফজলে আহমদ করিম, ফজলী ইশরাত রহমানী, রাজ মুরাদাবাদী এবং ওয়াহেদ বক্শ কাদরী উপস্থিত ছিলেন। রেডিওর পক্ষ থেকে আমি এবং রাজ মুরাদাবাদী উপস্থিত ছিলাম। সে সময় কথায় কথায় মৌলবী আবদুল হক বলেছিলেন যে পাকিস্তানবাসী সকলকেই উর্দু শেখার দরকার।

কেননা তা না হলে জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে ঐক্যবন্ধন সৃষ্টি হবে না। যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ভাষাভাষী লোক রয়েছে সে কারণে তাদের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে একটি ভাষার প্রয়োজন এবং সে ভাষা হচ্ছে উর্দু ভাষা। এভাবে কথা বলতে বলতে হঠাৎ মৌলবী সাহেব সিন্ধীদের উর্দু বিরোধিতার কথা বললেন এবং সেই সূত্রে বললেন, “উর্দুর বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে ইসলামের বিরোধিতা।” আমি তখন প্রতিবাদ করতে বাধ্য হলাম। আমি বললাম, “আমার তো মনে হয় এই ধরনের উক্তি করাই ইসলাম বিরোধিতা। কেননা আল্লাহ তায়ালার তরফ থেকে মাত্র একটি ভাষায়ই কোরআন নাযিল হেয়েছে আর সে ভাষা হচ্ছে আরবী ভাষা। সুতরাং সেই সূত্রে যদি কোন ভাষাকে একান্তই ইসলামের ভাষা বলা হয় তাহলে আরবীকেই বলতে হবে।” মৌলবী আবদুল হক আমার কথায় বিরক্ত হলেন মনে হল এবং কোন একজন অপোগণ্ড একটি মন্তব্য করেছে এই রকমভাবে দেখিয়ে বললেন, “এ উপমহাদেশে ইসলামের কাজ উর্দুভাষেতেই হেয়েছে তাই ইসলামী ভাষা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবার অধিকার উর্দুর আছে।” আমি তখন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু রাজমুরাদাবাদী আমাকে থামিয়ে দিল। সে আমার কানে কানে বলল, “খামোশ যাও ভাই।”

পরের দিন বিকেলে নাজিমুদ্দীন রোডের পাকিস্তান ভবনে মৌলবী আবদুল হকের রিসেপশন ছিল। রিসেপশন মানে চা-বিস্কিট খাওয়া এবং ঘরোয়া কথাবার্তা। কোনোরূপ বক্তৃতার আয়োজন ছিল না। মাঠের মধ্যে এদিক ওদিক চেয়ার-টেবিল বসানো ছিল।

রেডিওর কর্মচারী হিসেবে আমরা কেয়কজন এদিক ওদিক ঘোরাফিরা করছিলাম। কোন এক ফাঁকে দেখলাম যে মৌলবী আবদুল হক সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েছেন এবং বাগানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সে সময় রেডিও ভবনে প্রচুর গাছ ছিল। তাতে বেশ কিছু জায়গায় বেশ আড়াল তৈরি হেয়েছিল।

এরকমই একটি আড়ালের দিকে মৌলবী সাহেবকে এগোতে দেখে আমি এবং রাজ কৌতূহলবশত অনুসরণ করলাম। হঠাৎ গাছের আড়ালে পানি পড়ার শব্দ শুনে আমরা চমকে উঠলাম। পাতার আড়াল থেকে দেখলাম মৌলবী সাহেব ইজারবন্দ খুলে দাঁয়মান অবস্থাতেই পশ্চিম দিকে মুখ করে পেশাব করছেন। পানি নেওয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। আমি রাজকে নিয়ে সরে এলাম। বললাম, দেখো, “তোমাদের ইসলামের তল্লিবাহক বাবায়ে উর্দুর কীর্তি।”

আগেই উল্লেখ করেছি শিক্ষিত বাঙালীর কাছে রবীন্দ্রনাথের একটি বিশেষ স্থান ছিল। বিষয়টি লক্ষ্য করে পাকিস্তানীরা রবীন্দ্রনাথের বিপরীতে আল্লামা ইকবালকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। ফলে পরবর্তীকালে খোদ রবীন্দ্রনাথিই পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার একটি অনুষঙ্গ হয়ে ওঠেন।

সৈয়দ আলী আহসান লেখেন,

বখশ কাদরী এবং যার সামনে এ কথাটি বলেছিলেন তিনি কাজী আনোয়ারুল হক, সে সময়কার শিক্ষামন্ত্রী। কাব্যকে এবং সাহিত্যকে একটি নির্লজ্জ ধর্মীয় প্রচারের বাহন করবার যে অপচেষ্টা তখন হেয়েছিল, তাতে আমরা একে অন্যের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। ইকবালের মত একজন মহৎ কবিকে একটি ক্ষুদ্রগণ্ডির মধ্যে টেনে এনে দেশের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি করা হেয়েছিল। পাকিস্তানের শুরুতেই এই বিভাজনের প্রতিক্রিয়া আমরা লক্ষ্য করেছিলাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।”

যেকোনো আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নিপেষণ চলে সেই বিষয়কে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে প্রতিরোধ। পাকিস্তান আমলে শাসকগোষ্ঠী রবীন্দ্র সংগীতকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছিলেন। এর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ফলে রবীন্দ্র সংগীত ঘিরেই এক ধরনের প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ওয়াহিদুল হল চলচিত্র নির্মাতা তানভির মোকাম্মেলকে বলেন, আমরা রবীন্দ্র সঙ্গীত শিখাতাম সেটা ছিলো একটা স্বাভাবিক ঘটনা। বাঙালী যেভাবে রবীন্দ্রসংগীত শেখে সেভাবে। কিন্তু যখন এই বিষয়ে বাধা দেয়া শুরু হল তখন এটি একটি আন্দোলনে পরিণত হল।

বাঙালীরা যে শুধু পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী নয় বরং জাতিগতভাবে সাধারণ পাকস্তানীদের তরফ থেকেও ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা হত, কমজাত মনে করা হত সে সম্পর্কে জানতে পারা যায় খোদ পাকিস্তানীদের তরফ থেকেও।

পাকিস্তানী সাংবাদিক হাসান নিসার জিউওএক ইন্টারভিউতে বলেন, “বাঙালীদের সাথে আমাদের কোন ধরনের কোন মিলই ছিল না। পাঞ্জাবি ইউনিভার্সিটিতে তাদের জন্য কোটা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপর কিছুদিন ওদের সাথে আমরা মিশতাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আমরা পশ্চিম পাকিস্তানিরা ওদের থেকে আলাদা হয়ে যেতাম।”

এদের জিঘাংসার উত্তম নজির পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আজীবন পাকিস্তানপন্থী সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের ‘স্মৃতি একাত্তর’ গ্রন্থে। তিনি লেখেন, ‘রাজশাহীতে তখন পূর্ণ উদ্যমে হিন্দুরা পদ্মা পেরিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যাচ্ছে। এদের মধ্যে বহু মুসলমানও ছিলো। আর্মি গ্রামাঞ্চলে সারা গ্রাম জ্বালিয়ে দিতো। এর ফলে সর্বত্রই একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আমি আগেই বলেছি যে আর্মির বিশ্বাস ছিলো যে হিন্দুদের তাড়িয়ে দিলেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে। এরকম একটা ঘটনার বিবরণ ডক্টর বারী দিয়েছিলেন। তারই জানাশোনা এক গ্রামে দুষ্কৃতকারী বলে চিহ্নিত বহু লোককে আর্মি হত্যা করে। এদের মধ্যে একজন ছিলো বাবরী ও দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি। আর্মি বলে বসলো ‘ইয়ে শিখ হ্যায়।’ ডঃ বারী নিজে বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।’

পাকিস্তানীরা বাঙালীদের কম মুসলমান মনে করতেন, বাঙলা ভাষাকে হিন্দুর ভাষা বলে

তখনকার সময় পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ের অধিকাংশ চাকরি বিহারিদের করায়ত্ত হলো। হয়তো তাদের প্রোভাইড করার জন্য এটা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের একটি উদার ব্যবস্থা কিন্তু বিহারিরা এই উদারতার এতটুকু যোগ্য ছিল না। তারা রেলওয়ে ওয়ার্কশপে কলকজা ইত্যাদি মেরামতের কিছুটা দক্ষতা দেখিয়ে ছিল। কিন্তু রেলওয়ে পরিচালনার মতো দক্ষতা তাদের ছিল না। আমি এদের কাণ্ড-কীর্তির অনেক বিষয় অবগত ছিলাম। কারণ আমার এক খালাত ভাই তখন রেলওয়ের বড় কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বিহারিদের ব্যাপারে উদারই ছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ বিহারি অফিসার ছিলেন আচরণে অসংযত এবং মন-মানসিকতার দিক দিয়ে দাম্ভিক। এ অবস্থার সুযোগ নিতেন সাধারণ বিহারি যাত্রীরাও। দেখা যেত যে বিহারি মেয়েরা প্রথম শ্রেণি ও মধ্যম শ্রেণির কামরায় উঠে পা ছড়িয়ে থাকত। বাঙালি যাত্রীদের জায়গা দিতে চাইত না। এ নিয়ে পথেঘাটে নানা বিরোধের সৃষ্টি হতো এবং বিহারিদের সম্বন্ধে এ দেশের মানুষের স্বাভাবিকভাবেই ঘৃণার সৃষ্টি হেয়েছিল।

যদি বিহারিরা এ দেশে আশ্রয় নিয়ে এ দেশের মানুষের সাথে রক্তের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে এ মাটিতে মিশে যেতে পারত তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পর বিহারিরা যেভাবে ঝাড়ে-বংশে উৎখাত হয়ে গেল, এ ট্রাজেডির সৃষ্টি হতো না। এর জন্য তাদের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ দায়ী। তারা বাঙালি মুসলমানকে হীন ভাবত। নিচু স্তরের মানুষ হিসেবে গণ্য করত। অথচ বিহারিরা ছিল রিফুজি, আমাদের আশ্রিত। তাদের এ বিচ্ছিন্ন থাকার পেছনে আরও একটি ঘটনা হয়তো উৎসাহ যুগিয়ে থাকবে, সেটা হলো দেশ ভাগ হওয়ার পর যেসব মুসলমান পুঁজিপতি এ দেশে এসে ব্যবসা জাঁকিয়ে বসে লুণ্ঠন শুরু করেছিল তাদের অন্যতম দাদা দাউদ ইস্পাহানির দল। তারা শ্রমিক-কর্মচারী হিসেবে বাঙালিদের চেয়ে বিহারিদের বেশি বিশ্বস্ত ভেবে অধিক মাত্রায় নিয়োগ দিয়েছিল। যেমন আদমজি জুট মিল থেকে শুরু করে প্রায় সব কলকারখানা, জুট মিল এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে বিহারি শ্রমিকদের প্রাধান্য সৃষ্টি হেয়েছিল। এতে প্রতিদ্বন্দ্বি বাঙালি শ্রমিকদের গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হেয়েছিল বলে আমার মনে হয়। এর ফলে বিহারিদের সাথে এ দেশের মানুষের বিশেষ করে কিষাণ শ্রমিক ধরনের শ্রমনিপুণ মানুষের একটা ফারাক সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। প্রায় সব ধরনের বিহারিই বাঙালি নিম্নআয়ের মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করত এবং চেষ্টা করত উচ্চশিক্ষিত বাঙালিদেরও সুযোগ পেলে অপদস্ত করার। …তারা মিশতে চাইল না বলে বাংলাদেশের মাটি তাদের নিল না। তারা ধর্মের ঐক্যের কথা কোনোদিন বিবেচনা করত না। নিজেদের মনে করত বাঙালি মুসলমানদের থেকে অনেক উন্নত মানুষ তারা। তাদের নির্বোধ মনোবৃত্তির জন্য কত নিরীহ বিহারি নর-নারী বাংলাদেশে এবং পাকিস্তানে এখনও নিগৃহীত হচ্ছে।”

এগুলো যে নিছক স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের বিজেতাদের হাতে লিখিত ইতিহাস নয় তার প্রমাণ পাওয়া যায় খোদ বিহারীদের বক্তব্যেও। The fall of Dhaka from Three Bihari Eyes শীর্ষক এই ভিডিওতে দেখা যায়— পাকিস্তানে বসবাসরত ৩ জন বিহারীকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তারা ৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবকে ভোট দিয়েছিলেন কিনা? কিন্তু [পরবর্তী পৃষ্ঠাটি স্ক্যানে অনুপস্থিত]

Previous Article

কানাফানির রচনায় ইহুদিবাদী সাহিত্যের তত্ত্বতালাশ

Next Article

জিজেকের দুনিয়ায়

Write a Comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *