জিজেকের দুনিয়ায়

শিরোনাম দেখেই বুঝা যাচ্ছে জিজেকের পরিচিতিমূলক লেখা এটি। কিন্তু লেখক এখানে শুধু পরিচিতিতেই থামেন নাই। জিজেকের সিগনেচার কিছু কি-পয়েন্ট নিয়া ক্রিটিক করছেন এবং এই করতে গিয়া দেশীয় পলিটিক্স ও কালচার নিয়া অবজার্ভেশন দিতে দিতে বে অব বেঙ্গলের এই অঞ্চলেও তেনার প্রাসঙ্গিকতা বুঝার চেষ্টা করছেন। চিন্তকদের কাছ থেকে সবকিছুর সমাধান চাইবার যে পপুলার বাসনা তার একটা জবাবও হাজির আছে এই লেখায়। খেয়াল করলে বুঝা যাবে, গদ্যেও জিজেকের টোনটা ধরার কোশেশ ছিলো লেখকের; এটা হতে পারে জিজেকের বয়ান প্রচারের ভবিষ্যৎ বড়ো প্ল্যানের কোন সুচিন্তিত প্রকাশ বা তর্জমার ঘোষণা মতো কিছু — সম্পাদক

জগলুল আহমেদ  |  ১ম সংখ্যা · পৃষ্ঠা ৭৩

স্লাভয় জিজেক একটা মজাদার সাবজেষ্ট (হেগেলীয়-লাকানীয় অর্থসহ), ফ্যাশনেবল নাম, ইউটুবের কল্যাণে মোটামুটি সহজলভ্য। তাঁর বিবিধ টিক (Tic), ভালগার (ফ্রেঞ্চ উৎস vulgaire এর অর্থ সহ) জোক্স এবং গ্রেট সেন্স অফ হিউমার তাঁরে মজাদার মাল বানায়ে তোলে। ফলত বেশিরভাগ সময় তাঁর “শ্রেফ বিনোদনের বাক্স” “কমেডিয়ান জোকার” মুখোশ এড়ায়ে সময়ের অন্যতম শক্তিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক পরিচয়টা খুব একটা ফুটে ওঠে না সাধারণ চোখে। যেকারণে বঙাল দেশের অনুবাদকের চোখে তাঁর অনুবাদযোগ্য কেতাবের তালিকায় প্রথমেই স্থান পায় “জিজেকের জোকস”। এইটা কি প্রহসন না পরবর্তী ধাপের পুঁজিবাদের (Late stage capitalism) সিম্পটম কিংবা অত্যন্ত সুচতুর বুদ্ধিবৃত্তি নাকি অন্য কিছু বা কিছুই না, এসব বিবেচনার দায় পাঠকের। “মন্তব্য হইতে বিরত থাকাই উত্তরাধুনিক হেকমত” নীতিতে আপাতত আগাই।

সলিমুল্লাহ খানীয় স্টাইলে আমরা তাঁর চৌদ্দ পুরুষের ঠিকুজি নির্ণয় করিতে পারি বটে, তবে লেখকের মতে তার জন্য উইকিপিডিয়া কাফি। তবু কয়েকটা তথ্য আলোচনা আগাইতে বোধকরি জরুরি। প্রথমত, বলকান অঞ্চলের স্লোভেনিয়ায় তাঁর জন্ম ও বড় হওয়া (যা ছিল টিটো নেতৃত্বাধীন তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার অংশ)। তার বাবা মা ছিলেন প্রাকটিসিং নাস্তেক। এই পরিবেশে তাঁর মার্ক্সের সহিত সাক্ষাৎ না হওয়াটাই হইতো আজব। মার্ক্সের প্রতি তাঁর ভক্তি আজো দেখা যায় যখন নিজেরে তিনি পরিচয় দেন ‘Strange’ Marxist হিসেবে। কিন্তু স্লোভিন কর্তৃপক্ষের মতে তিনি “যথেষ্ঠ” মার্ক্সিস্ট ছিলেন না বিধায় তাঁর মাস্টার্স থিসিস রিজেক্ট খায়, তাঁর চাকরি খেয়ে দেওয়া হয়। তাইলে জিজেক কী? জর্ডন পিটারসেনের সহিত বাহাছে তিনি জবাব করেন, “I am more of a Hegelian.” এর মানে কী?

আলথুসারের প্রেরণায় লাকানীয় সাইকোএনালিসিসের মাধ্যমে তিনি দেখান ইডিওলজি কেমনে ব্যক্তি পর্যায়ে কাজ করে। অবশ্য এই ব্যাপারে তিনি ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।

একটা বন্ধ সিস্টেমের প্রস্তাব করে, যেখানে দ্বান্দ্বিকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগাবে পরমের (Absolute) দিকে। হেগেলের উদ্দেশ্য দ্বান্দ্বিকতাকে একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির রূপ দান করা। তিনি জার্মান শব্দ Aufhebung এর প্রস্তাব করেন। Aufhebung এর কাজ মূলত সংক্ষেপণ, কিন্তু এই সংক্ষেপণে মূল বস্তুটা থেকে যাবে, শ্রেফ সংক্ষিপ্তরূপে। কারণ হেগেলের মতে যখন আমরা দ্বান্দ্বিকতার যাত্রা শেষ করবো, তখন বস্তুটা আবার বাস্তবে ফিরে যাবে তার সমস্ত সত্তাকে (essence) অক্ষত রেখে, যার কারণে আয়াডোর্নো বলেন হেগেলীয় সিস্টেম ‘পেটে পরিণত মন’ (Belly turned mind)। কিন্তু এখানে সমস্যা থেকে যায় — শেলিংয়ের মতে এই পথ বৈধ না, কারণ দ্বান্দ্বিকতার পর বস্তুকে ফেরা প্রকৃতিতে ফিরায়ে দেয়াটা কোনো স্বয়ংক্রিয় ঘটনা হইলো না, বরং এই ‘সিদ্ধান্ত’ কর্তাসুলভ, যেনবা হাইডেগারি Gelassenheit (ক্রিশ্চান মিস্টিক ট্রেডিশনের একটা ধারণা, অনেকটা সুফি ফানাফিল্লাহর মত ব্যাপার, হাইডেগার মেইস্টার একার্ট থেকে টার্মটা ধার করেন) — যেকারণে মার্ক্স তাঁর দ্বান্দ্বিকতায় (দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ) হেগেলীয় দর্শনের বিরোধীতা করেন। এক্ষেত্রে জিজেকের পরামর্শ আমরা যেন হেগেলের লাকানীয় সমালোচনার একটু পুনর্পাঠ করি। হেগেল হয়তোবা লাকানীয় ‘কর্তাগত তফাত’ (subjective disjunction) অস্বীকার তো দূর, বরং কর্তা এবং সামষ্টিকের মধ্যকার কোনো অশ্রতপূর্ব পার্থক্যের কথা বলেন, এবং সেই পার্থক্যের জায়গায়ই তাদের সমন্বয় ঘটে। সেক্ষেত্রে হেগেলের একটা সোজাসাপটা উত্তরাধুনিক মার্ক্সিস্ট পাঠ হইতে পারে এমন যে হেগেল আসলে বিরোধ (Antagonism) স্বীকার করেন এবং চিন্তার জগতে তার সমাধা করেন বটে, কিন্তু বাস্তবে তা আর ঘটে না। এইক্ষেত্রে আমরা Aufhebung এর একটা নয়া পাঠ দাঁড় করাইতে পারি: আমরা দ্বান্দ্বিকতার দ্বিমাত্রিক ছবিতে থিসিস এবং এন্টিথিসিসের সরল সংযোগকে ভুলে যেতে পারি, যেহেতু বাস্তব জগতের বিরোধ আমাদের এমন সরল মিথক্রিয়ায় বাঁধা দেয়। তাই আমরা থিসিস এবং এন্টিথিসিসের মিথক্রিয়ায় একটা তৃতীয় মাত্রার শটসার্কিট কল্পনা করতে পারি, যাতে বিরোধের অসম্ভব ছদ্ম-সমাধানের বদলে আমরা বিরোধকে স্বীকার করেই সংশ্লেষণের দিকে আগাতে পারি, যাকে জিজেক বলেন তাঁর Parallax view. এই লম্বন দৃষ্টি ঠিক কেমন? যখন ফ্রান্সে বিপ্লব চলতেছে, তখন জার্মানিতে জার্মান আদর্শবাদ (German Idealism) চলতেছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুইটা আন্দোলন চললেও দুইজনের গতিপথ সম্পূর্ণ উলটা — একটা বিপ্লবী, অন্যটা রক্ষণশীল; অথচ দুইটাই সংযুক্ত: কারণ একদিক থেকে চিন্তা করলে বিপ্লবটা কার্য, আর আদর্শবাদ তার তত্ত্বায়ন— যাকে এই লম্বন দৃষ্টিতেই কেবল সমন্বিত করা সম্ভব (মার্ক্স কি তাই করতে চান নাই?)।

দ্বিতীয়ত আমরা হেগেলীয় সিস্টেমের সম্পূর্ণতা (totality) নিয়া আলোচনা করতে পারি। হেগেল কি গু-খোর? থিসিস-এন্টিথিসিসের মিথক্রিয়ায় উৎপন্ন সিন্থেসিসের আবার অন্য এন্টিথিসের সাথে মিথক্রিয়া – যেনবা খাবার খেয়ে উৎপন্ন গু আবার পেটে ঢুকানো।

আমরা নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান তাতে আরোপ করতে পারি না, বরং তাঁর কাছে অনির্ধার্যতার মানে এই যে একটা ঘটনার কোনো নিরপেক্ষ “অব্জেক্টিভ” মানদণ্ড নাই।

যেনবা এক নয়াদুনিয়ার উম্মোচন করেন। স্মরণ করা যায় অচেতনের (Unconscious) প্রসঙ্গে লাকাঁর বিখ্যাত সূত্র, “অচেতন ভাষার মতো।” ফ্রয়েডীয় চিন্তাকে লাকাঁ কীভাবে নতুন আকার দিয়েছেন তার একটা উদাহরণ দেয়া যাক। ফ্রয়েডীয় অচেতনের চিরায়ত পাঠ অনেকটা এমন যে অচেতন অযৌক্তিক তাড়নার জগৎ, যা আমাদের যৌক্তিকতার অনেক সময় বিরোধীও। লাকাঁ বলেন এইরকম তফসিরের সাথে ফ্রয়েডের সম্পর্ক নাই, বরং অচেতনের এইরূপ ধারণার আবিষ্কার রোমান্টিক Lebenphilosophie (Philosophy of Life) এর। লাকানীয় তফসিরে অচেতন ভাষার মত নিয়মবদ্ধ, তার নিজস্ব যুক্তি আছে, ব্যাকরণ আছে। লাকাঁর দুনিয়া ফ্রয়েডের অযৌক্তিক তাড়না (Id) কে ‘আমি’র (ego) পরাজিত করার ব্যাপার না, বরং নিজের ভিতরের এই অসহনীয় সত্যের মুখোমুখি হওয়াটাই লক্ষ্য। এইটাই লাকানীয় মনোবিশ্লেষণকে অন্যান্য স্কুল থেকে (ফ্রয়েডের থেকেও) আলাদা করে। লাকানীয় বিশ্লেষণে বিশ্লেষক রোগীকে আলোচনার মাধ্যমে তার সমস্যার গোড়ায় নিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেন, যেকারণে লাকাঁর তত্ত্বে সসুরীয় ভাষা ও চিহ্নতত্ত্ব (Linguistics and semantics), হেগেলীয় দ্বান্দ্বিকতা এতটা জরুরি। যেহেতু মনোবিশ্লেষণের ব্যবহারিক ক্ষেত্র তুলনামূলক সংকোচিত হয়ে আসছে, তাই জিজেক (এবং তার সহকর্মীরা) জোর দেন সাইকোএনালিসিসের তত্ত্বীয় প্রয়োগে। জিজেক এবং তাঁর ল্যাবলিয়ানা সাইকোএনালিটিক স্কুলের সবচে বড় সাফল্য বোধহয় পপ কালচার ও মিডিয়ার বিশ্লেষণ। জিজেককে সাধারণ মানুষ বেশি চেনে সম্ভবত সিনেমা ক্রিটিকের কারণে, বিশেষত হিচককের মুভিগুলোর লাকানীয় বিশ্লেষণ (Everything You Always Wanted to Know About Lacan…But Were Afraid to Ask Hitchcock বই, ডকুমেন্টারি The Pervert’s guide to cinema) আমেরিকায় সুপারহিট ছিল। জিজেক মূলত ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের কালচার ক্রিটিকের সিলসিলাকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। কারণ শ্রেফ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে শ্রেণিসংঘাতের উৎস বা সমাধানের পথ পরিষ্কার হয় না, সেই সাথে কোনো গোষ্ঠীকে কোন আদর্শ চালিত করে তার বিশ্লেষণও জরুরি। আর জিজেকের মতে ক্ষমতার গতিবিধি বুঝতে ফুকোর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ লাকাঁ। সেকারণের লাকানীয় সাইকোএনালিসিস এবং আলথুসারীয় ইডিওলজি ক্রিটিকের সাথে ইডিওলজির নয়া পাঠ হাজির করা জিজেকের আরেকটা দার্শনিক প্রজেষ্ট।

ইডিওলজি এবং কালচার একাডেমিয়াতে সমার্থেই ব্যবহৃত হয়। মার্ক্সিস্ট লাইনে ইডিওলজিকে দেখা হয় মিথ্যা চেতনা (False consciousness) হিসাবে, অর্থাৎ মানুষ জানে না সে কেন করতেছে, তারে ব্রেনওয়াশ করা হইছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় শ্রমিক কেন শোষিত হওয়ার পরেও প্রতিবাদ করে না? কারণ সে তার শোষণ বুঝতে পারতেছে না। জিজেক তার জবাবে বলেন ইডিওলজির ঝামেলা আরো জটিল – মানুষ জানে না এমন না, সে জানে, কিন্তু তবুও সে করে যাচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অজ্ঞানতা

উদাহরণ হিসাবে বলা যায় শ্রমিক কেন শোষিত হওয়ার পরেও প্রতিবাদ করে না? কারণ সে তার শোষণ বুঝতে পারতেছে না। জিজেক তার জবাবে বলেন ইডিওলজির ঝামেলা আরো জটিল – মানুষ জানে না এমন না, সে জানে, কিন্তু তবুও সে করে যাচ্ছে

এইসব করতে পারে না (সর্বোচ্চ তাদের ভুল বোঝানো হয়)।” এই সাবলাইম বস্তুগুলা লাকানীয় Master Signifier এর মতো কাজ করে, কেউ জানে না এই শব্দগুলার অর্থ কী বা কী বোঝায়, যেনবা তারা Signifiers without Signified, সংক্ষেপে যার মানে এরা কোনো আলাদা পরিষ্কার ধারণা বা বস্তুকে বুঝায় না। কিন্তু এই একাত্মতায় মানুষ একটা অদ্ভুত আরাম পায়, যারে বলা যায় ইডিওলজিকাল জুসস (jouissance)। ফ্রেঞ্চ jouissance এর বাংলা করা যায় মজা (pleasure), কিন্তু এই শব্দ দিয়ে মূলত সীমালঙ্ঘনকারী কামজ উপভোগকে বোঝায়।

ইদানিংকার দুনিয়ায় মানুষ তার খয়রাতি অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় খোঁজে। এই ম্যাট্রিক্স হইতে তারে মুক্ত করে তার স্বপ্নের বুর্জোয়া জিন্দেগির স্বাদ দিবে কোনো এক মসীহ। আলথুসার কন, ইডিওলজি (ম্যাট্রিক্স) হইতে মুক্তির ধারণা নিজেই শ্রেষ্ঠ ইডিওলজি, জিজেক যেমন সোজাসাপটা বলেন The Pervert’s guide to Ideology তে, আমরা তো প্রতিনিয়তই ইডিওলজির ডাস্টবিন থেকে খাইতেছি। তো এইক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? ইডিওলজির প্রতিনিয়ত ক্রিটিক করে যাওয়া, বাস্তবের সাথে তার ছেদগুলাকে তুলে আনা। এই ব্যাপারে জিজেক বলেন ১৯৮৮ সালের মুভি They Live এর কথা। মুভিতে নায়ক এক আজব চশমা পায় যেটা চোখে দিলে দুনিয়ার সাধারণ দৃশ্যের ভিতরে লুকানো গোপন ইডিওলজি দেখতে পায় (যেমন খবরের কাগজের খবরের মানে আসলে যা বলি মাইনা নাও, টাকার মানে খোদা)। ইডিওলজি ক্রিটিকের কাজ আসলে ঠিক উলটা, আমাদের উচিত বরং (ইডিওলজি দেখার) চশমাটা খুইলা দেখা দুনিয়াটা আসলে কেমন। কারণ ইডিওলজি আরোপিত কিছু না, বরং বাস্তবতার সাথে আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত মিথক্রিয়ার ফল, বাস্তবতাকে দেখার লেন্স। ইহজগতে মোক্ষ লাভ মানে তাই ইডিওলজি থেকে বের হওয়া (তুমিও পারবে মোটিভেশনের ঠেলায় কেমনে ক্যাপিটালিস্টরা প্রচুর পরিশ্রমের মাধ্যমে চার-পাঁচটা সাইড বিজনেস করে [Hustle culture] বড়লোক হইলো, আমিও হবো) না, বরং বোঝা যে ইডিওলজি কেমনে কাজ করে (বাপদাদার টাকায়, সরকারি ওরফে জনগণের টাকায়, শ্রমিক শোষণ কইরা কেমনে বিলিওনিয়ার হয়) এবং সামষ্টিক উন্নয়ন, মুক্তি এইসব কীভাবে সম্ভব। এই সত্তা পাঠের বাইরেও এটা বোঝা দরকার কীভাবে ইডিওলজি তার Master signifier গুলোর সুক্ষ্ম বুনেনে (Ideological quilting) বাস্তবতার চাদর বোনে, তার ছেদগুলার (বিরোধ) মোকাবিলা করে কীভাবে, যেমন নাৎসিবাদে জার্মান সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য দায়ী শ্রেণিসংঘাত না, বরং ইহুদি, বাংলাদেশে জামাত-শিবির।

জিজেকের সুপ্রশস্ত (দার্শনিক) দুনিয়ার বয়ান এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে দেওয়া দুষ্কর। জিজেকের বস্তুবাদী ধর্মতত্ত্ব, তত্ত্ববিদ্যা, রাজনীতিতত্ত্ব, ইতিহাসপাঠ ইত্যাদি নিয়া আলোচনার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সময়। তার জন্য দরকার জিজেক (বা অন্য যে কারো

মার্ক্স জবাব দিলেন, “বৌ!” ওদিকে এঙ্গেলস যে হালকা পিনিকবাজ, চাইলেন রক্ষিতা। সবাইরে অবাক করে লেনিন বললেন, “দুইটাই চাই!” কেন? তার মানে কি তাঁর কঠোর বিপ্লবী তছবিরের পিছনে একটা গোপন ভোগবিলাসী দিকও আছে? না! লেনিন পরিষ্কার করতেছেন,”যাতে আমি আমার বৌরে বলতে পারি যে রক্ষিতার কাছে যাই। আর রক্ষিতারে বলবো বৌর কাছে যাই।” “তাইলে আপনে কী করবেন?” “আমি কোনো নির্জন জায়গায় গিয়া শিখবো, শিখবো আর শিখবো!”

‘১৪ র বিপর্যয়ের পর লেনিন কি এটাই করে নাই? সুইজারল্যান্ডের কোনো এক নির্জন জায়গায় গিয়ে উনি হেগেলের লজিক পড়ে “শিখছেন, শিখছেন এবং শিখছেন”। আর আমাদেরও এখন ঠিক এইটাই করা উচিত… শেখা, শেখা এবং শেখা… দুনিয়া কীভাবে চলতেছে।

Previous Article

সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রশ্নে সাতচল্লিশ এবং একাত্তর

Next Article

সত্তার অসহনীয় লঘুতা বা কুণ্ডেরার একখানা ফিকশনের দুনিয়া

Write a Comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *