বিচ্ছিন্ন ঘটনা নামে একটা কথা শুনে থাকবেন। পরম্পরা শূন্য ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিতে এই কথা ব্যবহার করা হয়। একটা ঘটনা কখন বিচ্ছিন্ন হইয়া উঠে? যখন ঘটনাটারে ইতিহাসের অন্য ঘটনাগুলার লগে মিলানো যায় না, বা মিলাইতে রাজি থাকে না পাবলিক। ঘটনাবলীর যেসব সিলসিলা সেগুলো কানেকশনগুলারে আমরা সরায়া ফেলি অথবা গোপন করতে থাকে কেউ, তখন ব্যাপারটা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় গিয়া থামে। আওয়ামি লীগের আমলের ক্রসফায়ার বা পুলিশের খুনগুলার কথা মনে করা যেতে পারে এইক্ষেত্রে। ওইগুলো কিন্তু ঘটনা হওয়ার মর্যাদা পায় নাই তখন! কেন? কারণ কোন ছবি নাই, পরিসংখ্যান নাই, লিস্ট নাই, এমনকি বয়ানও নাই কোন! এই যে না থাকা, না বলার ব্যাপার, এগুলা তো খেয়াল করতে পারা দরকার। লেখক এই লেখায় খেয়াল না শুধু, রীতিমতো বাড়াবাড়ির কথা বলতেছেন, যে, আর্কাইভ তো করা লাগবেই, ব্যাপারটা যেন অসুখের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়! এইখানে অসুখ যে কতোখানি সুখের ইশারা, তা বলা বাহুল্য বটে। আর্কাইভ না থাকাটা যে ঘটনা হিসাবে যেকোন ব্যাপাররে ইতিহাস থিকা মুইছা দেবার দিকে আগানো, ও অস্বীকারের রাস্তাটা তৈরি কইরা দেবার বন্দোবস্ত, তা উল্লেখেরও অপেক্ষা রাখে না। গণঅভ্যুত্থানের চিহ্ন ও রাজশাহীর স্মৃতি কতটুকু আর্কাইভিং করা হলো এবং তা অসুখের পর্যায়ে যেতে পারলো কিনা, তার বিচারে নামা যাক।—সম্পাদক
বাহাছ — লাল জুলাই। দ্বিতীয় সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২৪। ছত্রিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিশেষ সংখ্যা। ৩০+ প্রবন্ধে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, দার্শনিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। ৪২৪ পৃষ্ঠা। কানপড়া পাবলিকেশন, চট্টগ্রাম।