কালচারের পলিটিক্স ও পলিটিক্সের কালচার: গ্রামসি, মানহাইম ও আলথুসারের তত্ত্ব
কালচার ও পলিটিক্স দুইটা শব্দ, যা দিয়া ভিন্ন ভিন্ন দুই জিনিস বুঝানো হয়। কিন্তু কালচার বা পলিটিক্স শব্দ দিয়া কি বুঝানো হবে তার একটা শ্রেণি পরিচয়ও আছে! ধরেন, কালচার ওয়ার বা আইডেন্টিটি পলিটিক্স নামে দুইটা শব্দ বেছে লইলাম আমরা। খেয়াল করলে দেখবেন, কোনটা ওয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে তার একচেটিয়া ঠিক করানিয়া প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী হলো একটা প্রিভিলিজড গ্রুপ! আবার ওই গ্রুপ যখন ওয়ারে নামে তখন তা হবে স্বাভাবিক অবস্থা মতো, ওখানটায় অতো ওয়ার বা পলিটিক্স খোঁজে পাওয়া যাবে না বরং টিকে থাকতে চাইবার যেন জৈবিক বাসনা আছে শুধু! মানে, সমানে বিবাদমান কয়েক পক্ষ যখন যুদ্ধে লিপ্ত থাকে তখন শক্তিমান পক্ষটা নিজের যুদ্ধাংদেহী রূপ আড়ালে রাখতে পারে, আবার যুদ্ধে নিজের পজিশন ভালনারেবল হইয়া গেছে মতো হলে সে কামান দাগার সক্ষমতাও রাখে কোনটা স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থা এর জানান বা স্বীকৃতি দিতে। এইভাবে কোন আলাপ বা তর্করে সারভাইভ করতে না দেয়ার খায়েশ থিকা বলা হয়, এই তর্ক তো কালচারাল ওয়ার এর, এটা তো আবহমানকাল ধইরা চলে আসা স্বাভাবিক অবস্থার ব্যত্যয় ঘঠাইতে চাচ্ছে। পলিটিক্সের ক্ষেত্রেও একই কথা, কোনটা পলিটিক্স তাও ঠিক কইরা দেবার ব্যাপারও ঠিক কইরা দেবার ব্যাপার আছে। পলিটিক্স দেখা যায় সবাই করে, কিন্তু কোনটা কোন ক্যাটাগরির পলিটিক্স তা ঠিক করে দেয় একটা এস্টাবলিশমেন্ট। এটা খেয়াল করা যাবে যখন ডমিন্যান্ট পলিটিক্সের যেই আইডেন্টিটি তার পলিটিক্সও যখন উদাম হইয়া যায়, তখন সে চিৎকার পাড়ে ইত্যাদি ইত্যাদি তো সংস্কৃতি দখলের পাঁয়তারা, ভ্যালুজ পাল্টানোর কুমতলব। মূলত এই জঙ্গের কোনও শেষ নাই। কোন স্থায়ী সাম্যাবস্থা না থাকলেও এর একটা পরিবর্তনশীল অর্থে ডাইনামিক সাম্যাবস্থা আছে বইলা মনে করা যাক, যাতে সমাজের চিন্তাভাবনার এবং কিভাবে তা পরিবর্তিত হয় তার প্রতিফলন ঘটে। বলা বাহুল্য যে, এই সমাধান বিশেষ একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর ভর দিয়া থাকে। নিজে জেতার সম্ভাবনার পাশাপাশি অপরকে জিততে দেখবার মতন যুগপৎ ঔদার্য ও মানসিকতা থাকলেই সম্ভবত সেই সিস্টেমে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে সবার একটা ঐক্যমত্য দেখা যাবে। লেখক এই প্রবন্ধে কালচারের পলিটিক্স ও পলিটিক্সের কালচারের সুলুকসন্ধান করছেন এবং এই করতে গিয়া সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হেজিমনি ইত্যাদি কিভাবে কায়েম করা যায় তার কানপড়া দিয়েছেন ও তার আশাবাদের যৌক্তিকতা দেখাইছেন।—সম্পাদক
বাহাছ — লাল জুলাই। দ্বিতীয় সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২৪। ছত্রিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিশেষ সংখ্যা। ৩০+ প্রবন্ধে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, দার্শনিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। ৪২৪ পৃষ্ঠা। কানপড়া পাবলিকেশন, চট্টগ্রাম।