জুলাই বিপ্লব—মিথের গ্রাস, সভ্যতা রাষ্ট্র এবং অন্যান্য
ক্ষমতার স্বাভাবিক নন-ভায়োলেন্ট হস্তান্তর এর থিকা বিপ্লবী ক্ষমতা দখলের মাঝামাঝিতে গণঅভ্যুত্থানের পজিশন। ক্ষমতা দখলের প্রসেসটা যখন সন্ত্রাস বা ভোটচুরির ভিতর দিয়া হয় তখন ইন্তিফাদা ছাড়া উপায় থাকে না। এই লেখায় গণঅভ্যুত্থানের বয়ান সামনে আইনা বিপ্লবের জরুরতের আলাপ হাজির করার পাশাপাশি অভ্যুত্থানকে বিপ্লবে পরিণত করবার এক ধরনের কানপড়া দেয়া হচ্ছে, এবং এর সাপেক্ষে যথেষ্ট আশাবাদও। এইখানে হোপফুল হবার ব্যাপার হচ্ছে, ওই আশাবাদ মিথের গ্রাস ও সভ্যতা রাষ্ট্রের বয়ান দিতে গিয়া সাম্রাজ্যবাদী হবার কানপড়া দিচ্ছে না। বরং গণতান্ত্রিক হবার ইরাদা রাখতেছে, কলোনিয়াল রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙ্গে ইন্সটিটিউশন প্রতিষ্ঠা করবার বুদ্ধি দিচ্ছে। লেখক জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ইন্তেফাদা হিসেবে দেখে বিপ্লবে পরিণত করবার কথা বলতেছেন, ব্যাপারটা এমন, যে, প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘বিপ্লবী রাষ্ট্র’ কি কার্যকরী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ভিন্ন নাম? এই লেখার গুরুত্বের জায়গাটা অবশ্য অন্য, তা হচ্ছে ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের মতো বাকশালের ভিতর উগ্র জাতীয়তাবাদ নাই কেন, এই সওয়াল ধইরা আগানো। কিন্তু ওই জার্নি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ‘তোরা সবাই বাঙালি হয়ে যা’ এর যেই জাউরামি, তার তাফসির করতে পারে না।—সম্পাদক
বাহাছ — লাল জুলাই। দ্বিতীয় সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২৪। ছত্রিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিশেষ সংখ্যা। ৩০+ প্রবন্ধে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, দার্শনিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। ৪২৪ পৃষ্ঠা। কানপড়া পাবলিকেশন, চট্টগ্রাম।